রাত ৩টায় দলবল নিয়ে বাসায় গিয়ে হুমকি
তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ
ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি, দাবি ঠিকাদারের
যে এ কাজ করেছেন তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হব - মহানগর বিএনপি সভাপতি
সিলেটে রাত ৩টায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক সহকারী প্রকৌশলীর বাসায় ঢুকে তাঁকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ওই দপ্তরের এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। চাঁদা না দিলে সিলেটে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলী মো. শাহীন হোসেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা চেয়ে ১৩ অক্টোবর সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেন শাহীন হোসেন। তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিলেট নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।
জিডির আবেদনে শাহীন হোসেন উল্লেখ করেন, ১২ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে নগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোগলটুলা আবাসিক এলাকার স্মৃতি-৩ নম্বর বাসায় যান ঠিকাদার জাহাঙ্গীর ও তাঁর সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জন ব্যক্তি। তাঁরা দরজায় ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি করে দরজা খুলতে বলেন। দরজা খোলার পর তাঁরা ঘরে ঢুকে তাঁকে জোরপূর্বক জিম্মি করেন এবং ঘরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে তাঁকে টেনে বাসা থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সময় তাঁকে গালিগালাজ করা হয়। এলাকায় থাকতে হলে তাঁদের টাকা দিতে হবে, অন্যথায় বড়ো ধরনের ক্ষতি করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি সাধারণ ডায়েরি করার আবেদন করেন।
শাহীন হোসেন জানান, ঘটনার পর তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেন। জেলা প্রশাসকের পরামর্শে অনলাইনে কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন তিনি। সিলেটে যোগদানের দেড় মাসের মতো সময় হয়েছে তাঁর। এ সময়ের মধ্যে কাউকে ভালোভাবে চিনে উঠতে পারেননি। তবে ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম অফিসের সূত্রে পরিচিত।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই প্রকৌশলী গভীর রাতে গাড়ি থেকে নেমে বাসায় যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল না। এ কারণে তিনি নিজে, তাঁর বন্ধু সুমন, বড়ো ভাই ইকবাল ও এলাকার কয়েকজন মুরুব্বিকে নিয়ে প্রকৌশলীর বাসায় খোঁজ নিতে যান।
জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, ঘটনাটি মূলত বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটেছে। এর সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক বিষয় জড়িত ছিল না। পরদিন অফিসে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুল আরেফিন খান বলেন, জিডি বাতিলের বিষয়ে আমার জানা নাই। প্রয়োজনে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান হবে। তবে অফিসে বসে ঘটনাটি সমাধান করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈনুল জাকির বলেন, থানায় দাখিল করা সাধারণ ডায়েরিটি বাতিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযোগে উল্লেখ করা বিষয়টি সাধারণ ডায়েরির আওতায় পড়ে না, গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযোগ দায়ের করতে হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে এবং তিনি বিষয়টি অবগত আছেন।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, অপরাধ করলে তাঁর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির কোনো নেতা এমন কাজ করতে পারেন না। যিনি এ কাজ করেছেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। সাংগঠনিকভাবেও তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

